🖋 অধ্যায় ৪: ছায়ার মুখোমুখি
পরদিন সকাল। ক্লাসের সবাই গল্প করছে, কেউ পরীক্ষার দুশ্চিন্তায় মুখ গোমড়া করে বসে আছে। রবি চোখ রাখে সেই মেয়েটির দিকে—আজ সে এসেছে কিনা, সেটা জানার অস্থিরতায় বুক ধড়ফড় করছে।
হ্যাঁ, সে এসেছে। আগের মতোই শেষ বেঞ্চে। কিন্তু আজ সে একেবারে চুপ। কোনো খাতায় লেখেনি, কারো দিকে তাকায়ওনি।
রবি সোজা গিয়ে তার পাশে দাঁড়ায়। সাহস করে বলে—
— “আমার কিছু বলার আছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
মেয়েটি মাথা তোলে। চোখদুটো গভীর, যেন শত বছরের অভিজ্ঞতায় মোড়া।
— “তুমি ডায়েরিটা পেয়েছ, তাই না?”
রবি মাথা নাড়ে।
— “তুমি কে? সত্যি করে বলো।”
মেয়েটি হালকা হাসে।
— “আমি সেই, যার গল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল অনেক আগেই। কিন্তু ভালোবাসা কিছু শেষ হতে দেয় না। তাই আমি আবার ফিরে এসেছি, ভুলটা শুধরাতে।”
— “ভুল?”
— “হ্যাঁ, ভালোবেসেছিলাম একজনকে। সে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কখনো ছেড়ে যাবে না। কিন্তু সে ভয়ে পালিয়েছিল। আমি অপেক্ষা করেছিলাম... আর একদিন, একটা দুর্ঘটনায়... আমি...”
সে থেমে যায়।
রবির গলা শুকিয়ে আসে।
— “তুমি কি মারা গিয়েছিলে?”
একটি দীর্ঘ নীরবতা।
— “মৃত্যু শুধু শরীরের হয়, অনুভবের না। আমি ফিরেছি, কারণ একটা অসমাপ্ত গল্প এখনও বাকি।”
রবি তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ তার মনে হয়—এই মেয়ে, এই মানুষটি, তার জীবনের থেকেও বড় কিছু হয়ে উঠছে।
— “আমি কি তোমার পাশে থাকতে পারি?”
মেয়েটি তাকায়। বলে—
— “থাকতে পারো। কিন্তু মনে রেখো, যে পথে তুমি যাচ্ছো, সেখানে আলো নেই। শুধু ভালোবাসা আর মৃত্যুর কুয়াশা।”
একটি মৃদু বাতাস বইল। জানালার পর্দা উড়ে উঠল। আর সেই অদ্ভুত গন্ধটা—পুরোনো কাগজ, স্মৃতির, কান্নার—ছড়িয়ে পড়ল ক্লাসরুমে।
📘 অধ্যায়ের শেষে:
সেদিন সন্ধ্যায়, রবি তার ডায়েরিতে লিখল—
"আমি জানি না সে মানুষ না ছায়া।
আমি শুধু জানি, আমি ওর পাশে থাকব।
সত্য খুঁজব, কারণ এই ভালোবাসা এখন আমার জীবন নয়—আমার দায়িত্ব।"
Top comments (1)
আশা করি িএই উপন্যাসটি যে পাঠক পড়বে তার পরবর্তী লাইন পড়তে ইচ্ছ করবে। এটা আমার বিশ্বাস ।