হাদীস থেকে:
কিয়ামতের অন্যতম একটি আলামত হলো, ভণ্ড নবীদের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। বুখারী শরীফের এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, প্রায় ৩০ জন ভণ্ড নবীর আগমন ঘটবে, যারা প্রত্যেকে নিজেকে নবী দাবী করবে। হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
ولا تَقُومُ السّاعَةُ حتّى يُبْعَثَ دَجّالُونَ كَذّابُونَ، قَرِيبًا مِن ثَلاثِينَ، كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أنَّه رَسولُ اللَّهِ. صحيح البخاري: 3609
অর্থ: প্রায় ৩০ জন মিথ্যাবাদী মহাপ্রতারকের আবির্ভাব না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। তাদের প্রত্যেকেই দাবী করবে যে, সে আল্লাহর রাসূল। (সহীহ বুখারী। ৩৬০৯)
হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনে হাজার আসকালানী ফাতহুল বারিতে উল্লেখ করেছেন, হাদীসে উল্লিখিত ৩০ সংখ্যার উদ্দেশ্য হলো, ভণ্ড নবীদের মধ্যে ৩০ জন এমন হবে যাদের দাপট তৈরি হবে। অনুসারীদের জামাত গড়ে উঠবে। অন্যথায় শুধু নবুওয়াতের দাবীদারদের সংখ্যা তো অনেক।
হযরত সাওবান রা. রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
لاَ تقومُ السَّاعةُ حتَّى تَلحقَ قبائلُ من أمَّتي بالمشرِكينَ، وحتَّى يعبُدوا الأوثانَ، وإنَّهُ سيَكونُ في أمَّتي ثلاثونَ كذَّابونَ كلُّهم يزعمُ: أنَّهُ نبيٌّ، وأَنا خاتمُ النَّبيِّينَ لاَ نبيَّ بَعدي
অর্থ: আমার উম্মতের কিছু গোত্র মুশরিকদের সাথে শামিল না হয়ে মূর্তিপূজা না করা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর খুব শীঘ্রই আমার উম্মতের মধ্যে ৩০ জন চরম মিথ্যুকের আবির্ভাব হবে। তারা প্রত্যেকেই নিজেকে নবী দাবী করবে। অথচ আমিই শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী নাই। (তিরমিজি। ২২১৯)
হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে:
بَينَ يَدَيِ السّاعةِ قَريبٌ مِن ثلاثينَ دَجّالينَ كَذّابينَ، كُلُّهم يَقولُ: أنا نَبيٌّ، أنا نَبيٌّ.
অর্থ: কিয়ামতের পূর্বে ৩০ জন চরম মিথ্যুক, মহাপ্রতারকের আবির্ভাব হবে, যাদের প্রত্যেকেই বলবে: “আমি নবী, আমি নবী”। (মুসনাদে আহমান। ৯৫৪৮)
ইতিহাস থেকে:
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এই আলামতটির বাস্তবতা স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো ফুটে ওঠে। এই আলামতটি খোদ রাসূলের যুগেই শুরু হয়েছে। রাসূলের জীবনের শেষের দিকে মুসাইলামাতুল কাযযাব, আসওয়াদ আনাসী ও তুলাইহাহ ইবনে খুওয়াইলিদ আসাদী নবুওয়াতের দাবি করে। এদের মধ্যে শুধু তুলাইহাহ ইবনে খুওয়াইলিদ দ্বিতীয়বার ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছিলেন এবং ইমানের সাথেই ইন্তিকাল করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে এই তালিকায় আরো অনেকের নাম জমা পড়ে। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলো:
সাজ্জাহ বিনতুল হারেস। এই প্রতারক মহিলা রাসূলের ইন্তিকালের পর নবুওয়াতের দাবি করে। ৪ হাজারের বেশি অনুসারী তৈরি হয়। মুসাইলামাতুল কাযযাবের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। মুসাইলামা তাকে নিজের তথাকথিত নবুওয়াতের অর্ধেক দান করে দেয়। আমীরে মুয়াবিয়া রা. এর শাসনামলে সে তাওবা করে মুসলমান হয়ে যায়।
মুখতার ইবনে আবি উবাইদ সাকাফী। এই বদবখত কুফা দখল করে নিয়েছিল। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নির্দেশে মুসআব ইবনে যুবাইর রা. কুফায় আক্রমণ করলে মুখতার সাকাফী পরাজিত হয় এবং নিহত হয়। সময়টা ছিল ৬৭ হিজরী। এভাবে হারিস ইবনে সাঈদ কাযযাব, আবু তাহের কারমিতী এবং মিরজা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানীরা যুগে যুগে নবুওয়াতের মানসাব নিয়ে টানাটানি করেছে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছেন।
মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী:
আমাদের এই উপমহাদেশে মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী নিজেকে নবী দাবী করে। এই বদবখত ১৮৮০ সাল থেকে বিভিন্ন দাবী দাওয়া করতে থাকে। কখনো নিজেকে মুজাদ্দিদ, (ধর্মীয় সংস্কারক) কখনো মুলহাম মিনাল্লাহ (আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহাম প্রাপ্ত)। কখনো নিজেকে ইমাম মাহদী বলেও দাবী করে এবং সর্বশেষ ১৯০০/১৯০১ সালে নিজেকে সরাসরি নবী দাবী করে বসে। ১৯০৮ সালে মৃত্যু অবধি সে এই দাবীর উপরেই অটল ছিল। আল্লাহ এই মালউনকে জাহান্নামে সর্বোচ্চ আজাবে পাকড়াও করুন,আমিন।
মূলত ব্রিটিশদের মদদেই মির্জা গোলাম তার কাদিয়ানী জামাত তৈরি করেছিল। পরবর্তীতেও কাফেরদের মদদেই তারা টিকে থেকেছে।
কাদিয়ানীদের ব্যাপারে এখানে বেশি কিছু বলবনা, শুধু একটি তথ্য উল্লেখ করবঃ গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের হাইফায় কাদিয়ানীদের একটা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ নিজে কাদিয়ানীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য দেয়। কাদিয়ানী কাফেরদের সাথে ইহুদী-খ্রিষ্টান কাফেরদের সম্পর্ক বুঝতে হলে এই ধরনের ঘটনাই যথেষ্ট।
চরম মিথ্যুক, মহা প্রতারক মির্জা গোলাম কাদিয়ানীও মূলত কিয়ামতেরই একটি আলামত। আল্লাহ তায়ালা সকল মুসলমানকে এদের কুফর থেকে হেফাজত করুন, কিয়ামতের পূর্বেই আখরাতের পাথেয় অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন।
For further actions, you may consider blocking this person and/or reporting abuse

Top comments (0)