DEV Community

দাওয়াতের পথ ও পদ্ধতিঃ পর্ব-১


![ ](https://dev-to-uploads.s3.us-east-2.amazonaws.com/uploads/articles/5n3v5uvy117yaqtskry9.jpg)

Enter fullscreen mode Exit fullscreen mode

-
দাওয়া ইলাল্লাহ বা আল্লাহর পথে আহবান মূলত নবীগণের কাজ। উলামায়ে কেরাম ও উম্মতে মুসলিমা এ দায়িত্ব পালন করেন নবীগণের নায়েব বা প্রতিনিধি হিসেবে। একারনে দাঈদের জন্য জরুরী হলো নবীদের দাওয়াতের পদ্ধতি ও আদব রপ্ত করে নেওয়া। তারা যে পথ ও পদ্ধতির অনুসরণ করে দাওয়াত দিয়েছেন সেই পথ ও পদ্ধতির অনুসরণ করা। অতএব কারো দাওয়াত যদি নবীগনের পথ ও পদ্ধতির বিপরীত হয়, তাহলে সেটি দাওয়াত নয় বরং খাহেশাতের অনুসরণ।

নববী দাওয়াতের মূলনীতিঃ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা নাহলে ইরশাদ করেন-
ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
অর্থ: “আপনি আপনার রবের পথে আহবান করুন হেকমতের মাধ্যমে, উত্তম উপদেশ দান করে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়। নিশ্চয় আপনার রব যারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে তাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত রয়েছেন এবং তিনি হেদায়াতপ্রাপ্তদের ব্যাপারেও অধিক জ্ঞাত” [সুরা নাহল ১৬:১২৫]‫‬‬‬
এখানে আল্লাহ তাআলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাওয়াতের তিনটি পদ্ধতি শিখিয়েছেন। পদ্ধতি তিনটি হল-
১. হেকমত ২. মাওয়ায়েযে হাসানা ৩. জিদালে হাসান।
এই পদ্ধতি তিনটির প্রয়োগ ব্যাক্তিভেদে এবং অবস্থাভেদে ভিন্ন হবে। কারো জন্য শুধু হেকমতই (সংশয় দূরকারী অকাট্য দলিল, যা প্রজ্ঞার সাথে উপস্থাপন করা হয়) যথেষ্ট। কারো জন্য মাওয়ায়েজে হাসানার (অন্তর নরমকারী জ্ঞানগর্ভমূলক কথা) প্রয়োজন হবে। আবার কারো ক্ষেত্রে জিদালে হাসানের (উত্তমভাবে বিতর্ক করা) প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সেটি উত্তম পদ্ধতিতে হয়। ব্যাক্তিগত আক্রমণ, গাল-মন্দ বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা কোনভাবেই জিদালে হাসান নয়।

নববী দাওয়াতের নমুনা ও আমাদের জন্য শিক্ষাঃ

ফেরাউনের কাছে দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার জন্য মুসা ও হারুন আলাইহিমাস সালামকে আল্লাহ তাআলা যে পদ্ধতি শিখিয়েছেন তা আমাদের জন্যও অনুসরণীয়ঃ আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى
তোমরা ফেরাউনের সাথে নরমভাবে কথা বল, এতে হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে। [সুরা ত্বহা ২০:৪৪]
আমাদের সবার এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিৎ যে, ফেরাউনের মত অহংকারী কাফের, যার মৃত্যু আল্লাহর ইলম অনুযায়ী কুফর অবস্থায়ই হবে, তার সাথেও আল্লাহ তাআলা নরমভাবে কথা বলার আদেশ দিয়েছেন। অথচ আমাদের অবস্থা হল কারো সাথে মতের সামান্য অমিল হলেই নোংরা ভাষা ব্যাবহার করা শুরু করে দেই।
স্মরণ রাখতে হবে, বর্তমানে আমরা যাদেরকে দাওয়াত দিই, তারা কেউ ফেরাউনের চেয়ে বড় কাফের নয়। আর আমরা কেউ মূসা ও হারুন আলাইহিমাস সালামের মত পথপ্রদর্শকও নই।
কুরআনুল কারীমে কাফেরদের সাথে নবীগণের তর্ক বিতর্কের অনেক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। কোথাও দেখা যায় না যে, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ প্রতিপক্ষের সাথে মন্দ আচরণ করেছেন, তাদেরকে গালি গালাজ করেছেন বা তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন।
শুধু তাই নয়, অনুসরণীয় দাঈগণ অনেক সময় উম্মতের দিকে সরাসরি মন্দ কাজের নিসবত না করে, প্রসশ্নবোধক বাক্যে নিজের দিকে নিসবত করে তাদের সংশোধনের চেষ্টা করেছেন। যেমন সূরা ইয়াসীনে এক দায়ীর দাওয়াতের ভাষা উদ্বৃত হয়েছে।
وَمَا لِي لاَ أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
আমার কি হল যে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে, আমি তাঁর এবাদত করবো না? [সুরা ইয়াসীন ৩৬:২২]
এমনই ছিল নবীগণের ও অনুসরণীয় দাঈগণের দাওয়াতের নমুনা, তারা অনেক উত্তম পদ্ধতিতে মানুষের মাঝে দাওয়াতি কাজ করতেন। আমরা যারা নিজেদেরকে দাঈ মনে করি তাদেরও উচিত নবীগণের মত দরদ ও মুহাব্বতের সাথে উত্তম পদ্ধতিতে দাওয়াত দেয়া।

Top comments (0)