DEV Community

একটি অবহেলিত আমলঃ শেষ রাতের ইস্তিগফার

ইস্তিগফারের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনে অন্তত সত্তরবার ইস্তিগফার করতেন। এমনিতে ইস্তিগফার দিনের যে কোন সময়ই করা যায়। তবে রাতের শেষাংশে ইস্তিগফারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
قُلۡ اَؤُنَبِّئُكُمۡ بِخَیۡرٍ مِّنۡ ذٰلِكُمۡ ؕ لِلَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا عِنۡدَ رَبِّهِمۡ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا وَ اَزۡوَاجٌ مُّطَهَّرَۃٌ وَّ رِضۡوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ بَصِیۡرٌۢ بِالۡعِبَادِ ﴿ۚ۱۵﴾ اَلَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوۡبَنَا وَ قِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿ۚ۱۶﴾ اَلصّٰبِرِیۡنَ وَ الصّٰدِقِیۡنَ وَ الۡقٰنِتِیۡنَ وَ الۡمُنۡفِقِیۡنَ وَ الۡمُسۡتَغۡفِرِیۡنَ بِالۡاَسۡحَارِ ﴿۱۷﴾

বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম বস্তুর সংবাদ দেব? যারা তাকওয়া অর্জন করে, তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর (রয়েছে) পবিত্র স্ত্রীগণ ও আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ বান্দাদের ব্যপারে পরিপূর্ণ অবগত। যারা বলে- হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা ঈমান আনলাম। অতএব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, আনুগত্যশীল, (আল্লাহর পথে) ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী। -[সুরা আলে ইমরান ১৫-১৭]
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের একটি আমল হল তারা রাতের শেষাংশে নিজ ভুল ত্রুটি ও গুনাহের জন্য ইস্তিগফার করেন। কারণ এই সময় আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানের দিকে এসে গুনাহ ক্ষমা করার জন্য বান্দাদের ডাকতে থাকেন। হাদীসে এসেছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ

আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানের দিকে অবতরণ করে (এই বলে) ডাকতে থাকেনঃ কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কে আছে এমন যে আমার নিকট চাইবে, আমি তাকে তা দেবো। কে আছে এমন যে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করবো। -[সহীহ বুখারী ১১৪৫]

এই সময় ইস্তিগফারের বিশেষ গুরুত্বের কারণে সালাফরা এই সময়টাতে অন্যন্য আমলের চেয়ে ইস্তিগফার ও দোয়ায় বেশি মনোযোগী হতেন। ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ তাফসীরে ইবনে কাসীরে উল্লেখ করেছেন

১। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাতে নামায আদায় করতেন (আর তার খাদেম নাফে’কে ডেকে) জিজ্ঞেস করতেন- হে নাফে’ সাহরীর সময় হয়েছে কি ? যখন তিনি বলতেন হ্যাঁ হয়েছে, তখন থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত তিনি দোয়া ইস্তিগফার করতে থাকতেন।

২। ইবরাহীম ইবনে হাতিব রহিমাহুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি একদিন সাহরীর সময় (রাতের শেষাংশে) মসজিদের কোণে এক লোককে দোয়া করতে শুনলাম। তিনি বলছিলেন, হে আল্লাহ আপনি আদেশ করেছেন আমি তা পালন করেছি, এখন তো সেহরীর সময় (রাতের শেষভাগ) অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। অতঃপর আমি তাকিয়ে দেখি দোয়াকারী ব্যক্তিটি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু। –[তাফসীরে ইবনে কাসীর - সুরা আলে ইমরানের ১৭ নাম্বার আয়াতের তাফসীর]

প্রিয় পাঠক! এখন তো রামাদান, সাহরী খাওয়ার জন্য সবাইকেই উঠতে হয়। তাই আসুন প্রতিদিন এই সময়ে তাহাজ্জুদ আদায়ের পাশাপাশি গুরুত্ব সহকারে দোয়া ও ইস্তিগফার করি। মজলুম ভাই বোন এবং উম্মাহর মুক্তিকামী উলামা ও মু/জা"হিদীনদের দোয়ায় স্মরণ রাখি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন।

Top comments (0)