বিশ্বজুড়ে ইসলাম বিরোধী মনোভাব এবং নিজ নিজ ধর্মকে আঁকড়ে ধরার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ইউরোপ আমেরিকা সহ অনেক জায়গায়ই উ"গ্র ডানপন্থার ব্যাপক উত্থান ঘটছে।
ই'সর|য়েলে তো রীতিমত উ"গ্রতার বিস্ফোরণ ঘটেছে, মসজিদে আক্বসা ধ্বংস করে গ্রেটার ই'সর|য়েল প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।
ভ|র'তের অবস্থাও ভয়াবহ, সেদেশের সর্বত্র উ"গ্র হি*ন্দুত্ববাদের জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া, জয়’শীরাম না বলায় পিটিয়ে মারা, বাড়ি ঘর মসজিদ মাদ্রাসায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া বর্তমানে সেখানকার নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপরদিকে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে ঘটছে উলটো ঘটনা, ইসলামপন্থীরা উদারতার নামে বিধর্মীদের সাথে গলা মিলাচ্ছে, তাদের তুষ্ট করার জন্য ইসলামের বিভিন্ন বিধানকে গোপন করছে, অনেক বিধান কাট-ছাঁট করে বর্ণনা করছে, ইনিয়ে বিনিয়ে কাফেরদের অপছন্দের বিধানকে অস্বীকার করছে।
ইসলাম ও ইসলামী জীবনব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরার পরিবর্তে গণতন্ত্র, সে'ক্যুলারিজম, লিবারেলিজম ইত্যাদি কুফরি ব্যবস্থাকে মুসলিম সমাজে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
এসব দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, কেন আমাদের মধ্যে এই উলটো স্রোত, কেন আমরা ইসলামকে আঁকড়ে ধরার পরিবর্তে কাফেরদের খুশি করার জন্য ইসলাম ত্যাগের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছি?
অথচ অন্য সকল ধর্মের উ"গ্র ডানপন্থাই জুলুম, উ"গ্রতা এবং অনাচারে পূর্ণ, সে'ক্যুলারিজমও মূলত অন্যায় এবং জুলুমভিত্তিক একটি মতাদর্শ, একমাত্র ইসলামই মুসলিম-অমুসলিম সকলের জন্য সত্যিকারের ইনসাফ ও শান্তি নিশ্চিত করতে পারে। চারদিকে উ"গ্র হি*ন্দুত্ববাদ এবং সে'ক্যুলার-লিবারেল স/ন্ত্র|সের এই প্রবপল ঝড়ের বিরুদ্ধে একমাত্র ইসলামই আমাদের রক্ষাকবচ হতে পারে।
গত এক দশকে ভ|র'তের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে, সেখানে নরম হিন্দুত্বের পরিবর্তে উ"গ্র হিন্দুত্ববাদ কেন্দ্রীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। শুধু কেন্দ্র সরকারে নয়, বেশিরভাগ রাজ্যেও উ"গ্র হিন্দুত্ববাদীরা ক্ষমতায়। এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গেও উ"গ্র হিন্দুত্ববাদী দল বি/জে'পি ক্ষমতায় এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গে আজ বা কাল যে, গে/রু'য়া ঝড় বইবে এটি সেখানকার সমাজ, রাজনীতি সহ সর্বত্র হিন্দুদের মাঝে উ"গ্রতার উত্থান দেখে অনেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন।
তবে এবার বি/জে'পিকে ক্ষমতায় আনতে কেন্দ্র সরকারকে কম কষ্ট চক্রান্ত করেনি। ৯১ লক্ষ ভোটারকে এসআইআর করে বাদ দিয়েছে, প্রায় ২৮ লক্ষ মানুষকে একরকম বাংলাদেশী তকমা দিয়ে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচনে নৌ ও বিমানবাহিনী ছাড়া ভ|র'তের সব কেন্দ্রীয় বাহিনী অংশ নিয়েছিল, স্বাভাবিক কোন নির্বাচন নয়, যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছিল এই ভোটে। ভোটে জেতার জন্য মো'দী সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল, অবশেষে জয় পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি প্রকাশ্যে গে/রু'য়া বলয়ে প্রবেশ করল।
বি/জে'পি ক্ষমতায় আসায় আমাদেরকে অচিরেই হয়তো আরো একটা শরনার্থী ঝড় দেখতে হবে। ইতিমধ্যে আসাম গুজরাত সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অনেক মুসলিমকে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে পুশ ইন করা হয়েছে। সামনে যদি এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায় তাহলে পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাবে বলে অনুমান।
এই দেশটি ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের জন্য নতুন ই'সর|য়েল হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, আশ পাশের দেশগুলো দখল করে অখণ্ড ভ|র'ত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। সেমতে তারা প্রচুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে, শুধু সেনাবাহিনীই প্রস্তুত করছেনা সাধারণ হিন্দুদেরকেও ট্রেনিং দিচ্ছে, অ/স্ত্র দিচ্ছে। আশে পাশের দেশে থাকা হিন্দুদেরকেও উ"গ্র হিসেবে গড়ে তুলছে। আশে পাশে নজর দিলেই আমরা এর বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারব।
প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের হা-হুতাশ, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ছাড়া বাস্তব কোন প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। যদি অদূর ভবিষ্যতে তারা আমাদের উপর যু*দ্ধ চাপিয়ে দেয় তাহলে মোকাবেলা তো দূরের কথা নূন্যতম আত্মরক্ষা করাও কি সম্ভব হবে?
এমতাবস্থায় আমরা কি করে নিজেদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের ইমান রক্ষা করব?
Top comments (0)