DEV Community

ইতিহাসের পাতায় থমকে দাঁড়ানো কিছু দিন


ক্যালেন্ডারের পাতায় এমন কিছু তারিখ আসে, যেগুলো সাধারণ দিনগুলোর মতো নীরবে পেরিয়ে যায় না; বরং সেগুলো জাতির স্মৃতিতে এমন গভীরভাবে গেঁথে থাকে, যেন মহাকাল নিজেই সেখানে এসে থমকে দাঁড়ায়। তারপর সে পেছন ফিরে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, 'সেই দিনটির পর থেকে আজ পর্যন্ত কী কী বদলে গেল?'
আজ থেকে ঠিক সিকি শতাব্দী আগের কথা। ১১ সেপ্টেম্বরের সেই কাকডাকা ভোরে আ(মরিকার আকাশ এক আসন্ন মুসিবতের কালো মেঘে ঢেকে ছিল। সেই মুসিবত তাদের ওপর এমন এক রূপে নেমে এল, যা পুরো ইতিহাসের গতিপথকেই বদলে দিল; সেইসাথে গোটা দুনিয়াকে যেন এক প্রবল ঝাঁকুনি দিয়ে জাগিয়ে তুলল।
খোদ তাদের নিজেদের আঙিনাতেই ঘটে গেল এক অভাবনীয় মহাবিপর্যয়। টুইন টাও/য়ার এবং ম|র্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ|লয় তথা পেন্ট|গনের সামনের অংশ ধ/সে পড়ার সাথে সাথেই ধুলোয় মিশে গেল তাদের বিশ্বজোড়া দম্ভ ও অহংকার।
এই ঘটনার পর বিশ্বের বড় বড় অপরাধী পরাশক্তিগুলো যেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। তারা এক সর্বগ্রাসী ও ভয়াবহ যু/দ্ধ চাপিয়ে দিল, যার অন্যতম রণ|ঙ্গন হয়ে দাঁড়াল ইরাক। কিন্তু সেখানে তাদের মোকাবিলায় বুক চিতিয়ে দাঁড়ালেন আহলে সুন্নাহর বীর শার্দুলরা।
আবু মুস/আব আয-যারক|বি, আবু আনাস আশ-শামি, আবু উমর আল-বাগদা/দি এবং যু/দ্ধমন্ত্রী আবু হামজা আল-মু/হ|জিরের মতো বরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ হাজারো সুন্নি আলেম, সেনাপতি ও মু/জ|হিদ বীরেরা ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। দজলা-ফুরাতের এই পুণ্যভূমি ইরাকে তাঁরা এমন এক অবিস্মরণীয় বীরত্বগাথা রচনা করলেন, যা ইতিহাস চিরকাল তাঁদের পবিত্র র/ক্তের কালিতে লিখে রাখবে।
আর আজ, দীর্ঘ সিকি শতাব্দী পর, ঠিক একই মাসে সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই মাসটিই ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বযু/দ্ধ শুরুর মূল কারণ; কেননা ২oo১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই মাসেই ঘটনাটি ঘটেছিল।
আর আজকের এই পুনরাবৃত্তি ঘটছে ২০২৬ ঈসায়ীর ৩০ সেপ্টেম্বরে, ঠিক একই কায়দায়; তবে এবার তা ঘটছে খোদ মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রে। একটি জ|
য়নবাদী-আমিরাতি বিম|ন ছিনত|ইয়ের চেষ্টা চালানো হলো, যাতে সওয়ার ছিল বহু জ|য়নবাদী ই/হু/দি।
এই ঘটনাটি এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছিল, যা হয়তো এই অঞ্চলে শত্রুদের সমস্ত হিসাব-নিকাশ ও ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুরোপুরি উল্টে দিত। আর ঠিক এই সময়েই ম|র্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণ|লয় ইরাক থেকে তাদের ল|ঞ্ছনাজনক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল। আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার যে দুঃস্বপ্ন তারা দেখেছিল, তা তারা কখনোই পূরণ করতে পারেনি।
হতাশার আঁধার চিরে আশার আলো
আ(মরিকা এবং তাদের দোসর কু/ফরি শক্তি ও সাফাভি রা(ফজি শিয়ারা যখন ইরাক দখল করে নিল, তখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেক আলেম পর্যন্ত চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিলেন। তাঁদের মনে হচ্ছিল, এই পরাশক্তিকে হয়তো কখনোই হারানো যাবে না এবং এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে আদতে কোনো ফায়দাই নেই। ঠিক সেই ঘোর অমানিশায় তাদের মোকাবিলায় রুখে দাঁড়ালেন আবু মুস/আব আয-যারক|বি ও তাঁর সাথী ভাইয়েরা।
আল-ক|
(য়দ|র শীর্ষস্থানীয় জি/হ|দি শায়খগণ এবং অন্যান্য বীর মু/জ|হিদরা তাঁদেরকে পূর্ণ সমর্থন জোগালেন। আর এটাই ছিল শত্রুদের পত/নের সূচনা; যা একদিকে যেমন মুসলমানদের হৃদয়কে শীতল করেছিল, তেমনি অন্যদিকে দ্বীনের শত্রুদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল।ইরাকের মাটিতে আ(মরিকার দম্ভ চূর্ণ হয়েছিল আল-ক|(য়দ| এবং অন্যান্য আত্মমর্যাদাশীল আহলে সুন্নাহর মু/জ|হিদদের হাতে।
আর গাজার মাটিতে জ|
য়নবাদীদের অহংকার ধুলোয় মিশেছে আল-ক|সস|মের বীর মু/জ|হিদ এবং তাঁদের সঙ্গী অন্যান্য আত্মমর্যাদাশীল যোদ্ধাদের হাতে। মূলত এই দুটি শক্তিই হলো বর্তমান বিশ্বের সমস্ত ফিতনা ও অকল্যাণের মূল হোতা। এদের মাঝে প্রথমটি, অর্থাৎ আ(মরিকা নিজেকে গোটা দুনিয়ার মোড়ল বা পুলিশ মনে করে; আর দ্বিতীয়টি, অর্থাৎ ইস/র|ইল হলো সেই মোড়লের সবচেয়ে আদরের দুলাল।
যু/দ্ধ এখনো শেষ হয়নি
তবে মনে রাখবেন, যু/দ্ধ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। জ|য়নবাদী, আ(মরিকান এবং ইসলামের বিরুদ্ধে যু/দ্ধরত অন্যান্য কু/ফরি শক্তির বিম|নগুলো এখনো আমাদের আকাশে চক্কর দিচ্ছে। চাইলেই সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো সম্ভব, ঠিক যেমনটি ঘটেছিল ১১ সেপ্টেম্বর এবং ৩০ সেপ্টেম্বরে।
যদি দ্বীনের প্রতি চরম আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এবং আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করার প্রেরণ|য় উজ্জীবিত কোনো মু
/জ|হিদ এই কাজ নাও করেন, তবুও আ(মরিকা ও জ|য়নবাদীদের শত্রুর সংখ্যা আজ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
এমনও হতে পারে, আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না এমন কোনো ব্যক্তিই তাদের ওপর হ|মলা করে বসল! কিন্তু তার সেই আঘ|তের চূড়ান্ত ফায়দা ইসলাম ও মুসলমানদের ঘরেই আসবে। যেমনটি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ اللَّهَ سَيُؤَيِّدُ هَذَا الدِّينَ بِأَقْوَامٍ لَا خَلَاقَ لَهُمْ
অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই দ্বীনকে এমন লোকদের দ্বারাও সাহায্য করবেন, আখেরাতে যাদের কোনো অংশ নেই।" (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৪৫১৭)
আল-ক|
(য়দ| তো কয়েক বছর আগেই এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল যে, তারা ১১ সেপ্টেম্বরের চেয়েও দশগুণ ভয়াবহ কোনো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর মহান আল্লাহর কুদরতের সামনে এটি মোটেও কোনো কঠিন কাজ নয়।
ইনশাআল্লাহ, সেই দিন খুব দ্রুতই আসবে, যেদিন আ(মরিকার মতো এই অশুভ সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পত/ন ঘটবে। তখন আমরা পবিত্র মসজিদে আকসাকে ই/হু/দিদের নাপাকি থেকে এবং পবিত্র হারামাইন শরিফাইনকে আলে-সৌদের ছিনিমিনি খেলা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র করব।
মু/জ|হিদদের প্রতি মোবারকবাদ
হে ইরাক, শাম, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল ও জাজিরাতুল আরবসহ বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ইসলামের বীর মু
/জ|হিদরা! আপনাদের জন্য রইল মোবারকবাদ। আজ আপনারা নিজেদের পবিত্র র/ক্ত দিয়ে এই উম্মাহর হারানো গৌরব নতুন করে রচনা করছেন।
কাল কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে আপনারা এর কানায় কানায় পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবেন। আর আপনাদের মধ্যে যাঁরা বেঁচে থাকবেন, তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরি শহীদ ভাইদের রেখে যাওয়া জি/হ|দের সুমিষ্ট ফল খুব শিগগিরই ভোগ করবেন; যা এখন একেবারেই সন্নিকটে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় আমাদের সমর্থক ভাইদের একটি কাজ সত্যিই কত চমৎকার! তাঁরা দজলা-ফুরাতের পাড়ে, তথা ইরাকে আমাদের বীর মু/জ|হিদদের অবিস্মরণীয় অভিযান ও তাঁদের অমূল্য বাণীগুলো বারবার প্রচার করছেন।
বিশেষ করে, আ(মরিকা যখন ইরাক দখল করেছিল, তখনকার শীর্ষ জি/হ|দি শায়খদের বাণীগুলো তাঁরা নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরছেন। এই শায়খদের মাঝে রয়েছেন ইমাম উ
স|ম| বিন ল|(দন, ইমাম আই/মান আয-যাওয়া|হিরি এবং ফিদায়ী মু/জ|হিদদের সিপাহসালার আবু মুস/আব আয-যারক|বি প্রমুখ।
তাঁদের এই কথাগুলো একদিকে যেমন গোটা উম্মাহর জন্য এক অকাট্য দলিল, তেমনি অন্যদিকে তা সেইসব আপসকামী দরবারি আলেমদের বিরুদ্ধেও এক শক্ত জবাব, যারা মু/জ|হিদদেরকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছিল।
সর্বোপরি, এই বাণীগুলো হলো আশার এক উজ্জ্বল প্রদীপ; যা মু
/জ|হিদদেরকে প্রতিনিয়ত কুরবানি পেশ করতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণ| জোগায়। আর এই পবিত্র কাফেলা ততক্ষণ পর্যন্ত থামবে না, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করেন এবং এই জমিনে তাঁর কালিমাকে সর্বোচ্চ আসনে সমুন্নত করেন।
সূত্র: সাপ্তাহিক আল-বায়ান নিউজলেটার, সংখ্যা-১১, ২১ রবিউল আখের ১৪৪৮ হিজরী, ২রা অক্টোবর ২০২৬ ইংরেজি

Top comments (0)