
সম্প্রতি ম|′র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম|′র্কিন সেনাব|হিনীর মেজর ও স|মরিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নি/দ|ল মালিক হাসানের ফ|য়|রিং স্কোয়াডে মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। যদি এই দ/ণ্ড শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে গত ছয় দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই হবে ম|′র্কিন সেনাব|হিনীর কার্যকর করা প্রথম কোনো মৃ/ত্যুদ/ণ্ড।
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ম|′র্কিন মুসলিম নাগরিক নি/দ|ল মালিক হাসান ১৯৭০ সালে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। মূলত ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড স|মরিক ঘঁ|টিতে হ|মল|র পরই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। আরব উপদ্বীপের অ|ল-ক|•(য়দ| (এ/কিউএপি)-এর শীর্ষস্থানীয় নেতা ও ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত ম|′র্কিন দাঈ আনোয়ার নাসের আব্দুল্লাহ অ|ল-আওল|কির অনুপ্রেরণায় তিনি সেই হ|মল|টি চালিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, আনোয়ার অ|ল-আওল|কি ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনে এক ম|′র্কিন ড্রে|ন হ|মল|য় নি/হত হন।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর নি/দ|ল হাসান টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘঁ|টির ভেতরে একটি সেমি-অটোমেটিক পি/স্তল দিয়ে গু/লি চালান। এটি ম|′র্কিন সেনাব|হিনীর অন্যতম বৃহৎ একটি স|মরিক ঘঁ|টি, যা মূলত সাঁজোয়া ব|হিনী ও স্থলযে|দ্ধ|দের প্রশিক্ষণ, প্রস্তুতি এবং বিশ্বজুড়ে মোতায়েনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তাঁর এই হ|মল|য় ১৩ জন নি/হত ও ৩০ জনেরও বেশি আহত হন। হত|হতদের প্রত্যেকেই ছিলেন ম|′র্কিন সেনা, যারা সেসময় বিদেশে মোতায়েন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আফগানিস্তান ও ইরাকে ম|′র্কিন আগ্র|সন এবং যু/দ্ধের প্রতি তাঁর তীব্র বি(রাধিতার প্রেক্ষাপটেই মূলত এই হ|মল| সংঘটিত হয়েছিল। তাছাড়া, স্বয়ং তাঁকেই আফগানিস্তানে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। হ|মল|র একপর্যায়ে একজন বেস|মরিক পুলিশ সদস্য তাঁকে লক্ষ্য করে গু/লি ছুড়লে তিনি আংশিক পক্ষাঘ|তগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তখন থেকেই হুইলচেয়ারে তাঁর ব/ন্দি জীবনের সূচনা ঘটে।
ম|′র্কিন যু/দ্ধ মন্ত্রণালয়ের (পেন্ট|গন) মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, যু/দ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নি/দ|ল হাসানের মৃ/ত্যুদ/ণ্ড ফ|য়|রিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন। ম|′র্কিন সেনাব|হিনীর একটি ফ|য়|রিং স্কোয়াডই এই দ/ণ্ড কার্যকর করবে। তিনি আরও যোগ করেন, সেনামন্ত্রী এই দ/ণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন এবং অবশেষে সাজাপ্রাপ্ত স/ন্ত্র|সী নি/দ|ল হাসানের হিসাব-নিকাশের দিন চলে এসেছে।
এই সিদ্ধান্তটি ঠিক এমন এক সময়ে এল, যার মাত্র কয়েকদিন আগেই ক্রিস্টা পাইক নামক এক ম|′র্কিন নারীকে প্রাণঘ|তী ইনজেকশন দিয়ে মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকরের একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ওই ব্যর্থতার জেরে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর চলতি বছরের জন্য অন্যান্য সকল মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর স্থগিত করেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
ম|′র্কিন স|মরিক বিচার ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী, স|মরিক আদালতের দেওয়া কোনো মৃ/ত্যুদ/ণ্ডের রায় প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না। ঠিক এ কারণেই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তটি রায় কার্যকরের পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বস্তুত, মৃ/ত্যুদ/ণ্ডের রায় ঘোষণার এতগুলো বছর পর এটি এই মামলার একটি নতুন মোড়। সেনাব|হিনীর বিধিমালা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর করার জন্য ৬০ থেকে ১৫০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারিত থাকে।
ম|′র্কিন সেনাব|হিনীর স|মরিক বিচার ব্যবস্থার অধীনে মৃ/ত্যুদ/ণ্ডপ্রাপ্ত যে চারজন ব/ন্দি রয়েছেন, নি/দ|ল মালিক হাসান তাদেরই একজন। বর্তমানে তিনি কানসাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থের স|মরিক ক|র|গারে নিজের ব/ন্দিজীবন পার করছেন।
ইরাক ও আফগানিস্তানে ম|′র্কিন স|মরিক দখলদারিত্বের বি(রাধিতা করা এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ|ল-ক|•(য়দ|র অন্যতম শীর্ষ নেতা, ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত ম|′র্কিন দাঈ আনোয়ার অ|ল-আওল|কির সাথে যোগাযোগ রাখার কারণেই আদালত নি/দ|ল হাসানকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
নিজের বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়|ই করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তিনি আদালতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ম|′র্কিন সেনারা যেন আফগানিস্তানে গিয়ে সেখানকার মুসলমানদের হ/ত্য| করতে না পারে, তা ঠেকানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এই গু/লি চালিয়েছিলেন।
আরব উপদ্বীপের অ|ল-ক|•(য়দ|র অনুপ্রেরণায় টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘঁ|টিতে এই ব্যাপক গু/লিবর্ষণের ঘটনা ঘটানোর দায়ে ২০১৩ সালে একটি স|মরিক জুরি বোর্ড নি/দ|ল হাসানকে মৃ/ত্যুদ/ণ্ডের আদেশ দেয়।
২০১০ সালের মার্চ মাসে অ|ল-ক|•(য়দ|র তৎকালীন আমির শাইখ উ/স।ম| বিন ল|(দ/ন যুক্ত/র|ষ্ট্রকে হুঁ/শিয়া/রি দিয়ে বলেছিলেন, যেদিন তোমরা অ|ল-ক|•(য়দ|র ব/ন্দিদের মৃ/ত্যুদ/ণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, সেদিন মূলত তোমরা নিজেদের সেইসব সেনাদের মৃ/ত্যুদ/ণ্ড দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নেবে যারা অ|ল-ক|•(য়দ|র হাতে ব/ন্দি হবে।
তৎকালীন ম|′র্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন যখন নাইন-ই(ল(ভন হ|মল|র মূল পরিকল্পনাকারী খ|লিদ শেখ মুহাম্মাদ এবং তাঁর চার সঙ্গীকে নিউই/য়র্কের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নিয়েছিল, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি এই কড়া হুঁ/শিয়া/রি উচ্চারণ করেছিলেন, কারণ ওই বিচারে তাদের মৃ/ত্যুদ/ণ্ডের ঝুঁকি ছিল।
এখন প্রশ্ন হলো, নি/দ|ল মালিক হাসানের মৃ/ত্যুদ/ণ্ড যদি সত্যিই কার্যকর করা হয়, তবে কি বিশ্ববাসী এবং যুক্ত/র|ষ্ট্র নতুন করে কোনো ম|′র্কিন বিমা/ন ছিনতা/ই ও আরও ম|′র্কিন সেনার প্র|ণহ|নির সাক্ষী হতে যাচ্ছে?...
নি/দ|ল হাসানের মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর হলে তা হবে ১৯৬১ সালের পর ম|′র্কিন সেনাব|হিনীর কার্যকর করা প্রথম কোনো মৃ/ত্যুদ/ণ্ড। মূলত এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এল, যখন প্রাণঘ|তী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে নানা জটিলতার সম্মুখীন হওয়ায় ম|′র্কিন কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। এসব বিকল্পের মধ্যে ফ|য়|রিং স্কোয়াড, বৈদ্যুতিক শ/ক এবং গ্যাস চেম্বারে শ্বাস(রাধ করে মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকরের মতো পদ্ধতিগুলো অন্যতম।
যুক্ত/র|ষ্ট্রে মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর করার একটি মাধ্যম হলো ফ|য়|রিং স্কোয়াড। তবে প্রাণঘ|তী ইনজেকশনের তুলনায় এর ব্যবহার একেবারেই বিরল। বেস|মরিক পর্যায়ে বর্তমানে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ফ|য়|রিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর করার আইনি বৈধতা রয়েছে। রাজ্যগুলো হলো মিসিসিপি, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলাইনা, উটাহ এবং আইডাহো।
স|মরিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, নি/দ|ল হাসানের দ/ণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হবে একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ, এটি হবে ১৯৬১ সালের পর ম|′র্কিন সেনাব|হিনীর কার্যকর করা প্রথম মৃ/ত্যুদ/ণ্ড। সেবার কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থ ক|র|গারে জন বেনেট নামের এক সেনাসদস্যকে ফঁ|সির রশিতে ঝুলিয়ে সর্বশেষ স|মরিক মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ম|′র্কিন স|মরিক ব|হিনীতে ফ|য়|রিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সর্বশেষ মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর করার ঘটনাটি ঘটেছিল সেই ১৯৪৫ সালে।
সতর্কবার্তা: এই লেখাটি মূলত আপনাদের তথ্যগত অবগতির উদ্দেশ্যে অনুবাদ করা হলো। সুতরাং, এখানে প্রদত্ত বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত বা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরে না নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, রচনায় উপস্থাপিত যাবতীয় চিন্তাধারা ও বক্তব্যের দায়ভার একান্তই মূল লেখকের নিজস্ব। তাঁর সকল মতাদর্শ বা বিশ্লেষণের সাথে আমাদের পুরোপুরি মতৈক্য থাকতে হবে—এমনটি কোনোভাবেই অপরিহার্য নয়। তাদের চিন্তাধারা আমাদের জানা দরকার, আর মূলত এ কারণেই আমাদের এই আর্টিকেল অনুবাদ করা হয়েছে। -অনুবাদক
Top comments (0)