তাতে শুধু অমুক তমুক গোষ্ঠী না পুরো জাতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাক্তির দ্বারা সংগটিত ঘটনা ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে যেভাবে পুরো একটি অঞ্চল, গোষ্ঠী ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিচার করে সেটি অবশ্যই ভুল। এই রোগ নির্দিষ্ট কোন ঘরানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন নৈতিক অবক্ষয়মূলক ঘটনা এবং মিডিয়ার ব্যাপক প্রচারণার কারণে সাধারণ শিক্ষিতদের একটা অংশ ঢালাওভাবে সকল আলেম উলামাদের ব্যাপারে কটু মন্তব্য করা শুরু করেছে। ‘আলেমদের থেকে ইসলাম শিখবেনা, আলেমদের দিয়ে নামায পড়াবেনা’ এমনসব ভয়াবহ মন্তব্যও করছে কেউ কেউ। এর মধ্যে একদল তো করছে ইসলামের প্রতি লালিত বিদ্বেষের কারনে, কিন্তু বড় একটা অংশ বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়ে এমনটা করছে। অথচ, কোনো কমিউনিটির কেউ অপরাধ করলে নির্দিষ্টভাবে সেই অপরাধী দায়ী হবে, এই কারণে ঐ কমিউনিটির সকল সদস্যকে আকই অপরাধে দায়ী করা কখনোই যৌক্তিক হতে পারেনা। আলেমদের কাছ থেকে দ্বীন না শেখার ঘোষণা দেয়া ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ না করার ঘোষণার মতই, বরং আরো ভয়াবহ। একইসঙ্গে কমিউনিটির দায়িত্বশীল এবং মুরুব্বীদের জন্য অবশ্যকর্তব্য হল-সকল ধরনের অপরাধ ও নৈতিক পদক্ষেপ রোধে সর্বোচ্চ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এটা না করা হলে আখিরাতে যেমন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে, দুনিয়াতেও কমিউনিটির নির্দোষ অংশটিকেও শত্রুর পক্ষ থেকে ঢালাও ট্যাগিং এবং অপবাদের শিকার হতে হবে।
অপরদিকে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের একটা অংশ স্কুল কলেজ পড়ুয়াদেরকে ঢালাওভাবে চরিত্রহীন মনে করে, জেনারেল শিক্ষিত মেয়েদের ব্যাপারে ঢালাওভাবে কুমন্তব্য করে। এটাও মারাত্মক অন্যায়। প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপবাদ দেয়া কিংবা পুরো কমিউনিটিকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করা ইসলামের মূলনীতির বিরোধী। হ্যা, অনেক জায়গায় পরিবেশ দূষিত, অনেক জায়গা আছে যেখানে অবস্থান কিংবা শিক্ষাগ্রহণ করাই বৈধ নয়। কিন্তু কোন একটা কমিউনিটির সবাইকে বা অধিকাংশকে নিয়ে ঢালাও মন্তব্য করলে নিশ্চিতভাবেই অনেক মুসলিম নারী-পুরুষকে অপবাদ দেয়ার গুনাহে জড়াতে হবে।
একটা গোষ্ঠী বা অঞ্চলের মানুষকে ঢালাওভাবে খারাপ বলার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ তথ্য উপাত্ত থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ঢালাওভাবে সমালোচনাকারীদের এমন কোন তথ্য উপাত্তের দরকার হয়না। ওরা আমার মতের বাইরের লোক, ওরা আমার অপছন্দের এলাকার লোক। ব্যাস! দোষী বানানোর জন্য বা কটূ মন্তব্য করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে আমরা আসলে নিজেদেরকেই বিপদে ফেলব, এর ফলে আমাদের মুসলিম জাতির ঐক্য, সহনশীলতা ও পরোপকারের মানসিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একে অপরের সাথে বিভাজন ও দূরত্ব বাড়বে। আর আমাদের শত্রুতা তো এটাই চায়।
তারা আমাদেরকে দলে দলে বিভক্ত করে একজনকে অপরজনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে শক্তি ক্ষয় করতে চায় এরপর দুর্বল পেয়ে সবাইকে শেষ করতে চায়।
আলেম উলামা ও জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত কেউ কারো শত্রু নয়, একে অপরের পরিপূরক। মুসলিম সমাজ সুন্দরভাবে চলতে হলে আলেম উলামার যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি জেনারেল শিক্ষিতদেরও প্রয়োজন আছে, সবাইকে নিয়েই আমাদের সমাজ।
কেউ কারো দয়া বা করুণার পাত্র নয়, কেউ কারো শত্রু বা বিরোধী নয়।
কারো ভুল হলে সেটাকে কেন্দ্র করে পুরো কমিনিটিকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা বা অপবাদ দেয়া মুসলিমের কাজ নয়,একজন সত্যিকারের মুসলিমের কাজ হল-ভুলকে ভুল বলা, অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা না করে সঠিক পন্থায় সমাধান ও নিরসন করা, সমস্যাগুলোকে মূল থেকে দূর করার জন্য নিরলস কাজ করা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আসা। মুসলিমদের বিভিন্ন অংশের ভুল ও অবক্ষয় দেখলে ব্যথিত হওয়া এবং আন্তরিকভাবে শোধরানোর চেষ্টা করা। সবাইকে সাথে নিয়ে উম্মাহর বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করা।
শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ
Top comments (0)