কিয়ামতের আলামতগুলো মৌলিকভাবে দু‘ভাগে বিভক্ত।
১. ছোট আলামত।
২. বড় আলামত। (যেগুলো কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঘটবে)
ঘটনকালের দিক থেকে ছোট আলামতগুলো তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঘটিত ছোট আলামত বা যেগুলো ইতোমধ্যে ঘটে গিয়েছে।
২. ঘটমান ছোট আলামত বা যেগুলো চলমান আছে।
৩. ঘটিতব্য ছোট আলামত বা যেগুলো ভবিষ্যতে ঘটবে।
রাসূলুল্লাহﷺ এর শুভাগমন কিয়ামতের অন্যতম আলামত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন নবুওয়াতের দীপ্তিমান আকাশের সর্বশেষ নক্ষত্র। তাঁর পর এই আকাশে আর কোনো নক্ষত্রের উদয় ঘটবে না। তাঁর আগমন কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত। স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসূলের আগমনকে কিয়ামতের আলামত আখ্যা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা মুহাম্মাদ-এর ১৮ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
فَهَلۡ یَنظُرُونَ إِلَّا ٱلسَّاعَةَ أَن تَأۡتِیَهُم بَغۡتَةࣰۖ فَقَدۡ جَاۤءَ أَشۡرَاطُهَاۚ فَأَنَّىٰ لَهُمۡ إِذَا جَاۤءَتۡهُمۡ ذِكۡرَىٰهُمۡ
অর্থ: তবে কি তারা (কাফেররা) কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, কিয়ামত তাদের উপর আকস্মিকভাবে এসে পড়ুক? (যদি সেই অপেক্ষায়ই থাকে) তবে তার আলামতসমূহ তো এসেই পড়েছে! অতঃপর তা যখন তাদের সামনে এসেই পড়বে, তখন তাদের উপদেশ গ্রহণের সুযোগ থাকবে কোথায়?
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় হাসান বসরী রা. বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আগমন কিয়ামতের আলামত। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)
তাঁর এবং কিয়ামতের মধ্যকার দূরত্ব - তর্জনী এবং মধ্যমা আঙুলের মধ্যকার দূরত্বের মত
বুখারি শরীফের এক রেওয়াতে তিনি নিজেই এই উপমা পেশ করেছেন। হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: بُعِثْتُ أنا والسّاعَة كَهاتَيْنِ
অর্থ: আমি প্রেরিত হয়েছে এমন অবস্থায় যখন আমি এবং কিয়ামত এরকম (তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দ্বারা ইশারা করে) কাছাকাছি। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৫০৪)
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম যাহহাক রা. বলেছেন: রাসূলের আগমন কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত। (ফাতহুল বারি, ১১/৩৫০)
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রয়াণও কিয়ামতের অন্যতম আলামত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শুভাগমন যেমন কিয়ামতের আলামত তেমনি তাঁর মৃত্যুও কিয়ামতের আলামত। বুখারী শরীফের এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عن عوف بن مالك قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك وهو في قبة من أدم، فقال: " اعدد ستا بين يدي الساعة: موتي، ثم فتح بيت المقدس.....
অর্থ: হযরত আউফ ইবনে মালেক রা বলেন: তাবুকের যুদ্ধের সময় আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। সেসময় তিনি একটি চামড়ার তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: কিয়ামতের পূর্বের ছয়টি আলামতকে তুমি গুনে রাখো। এক, আমার মৃত্যু। দুই, বাইতুল মাকদিস জয়…… (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩১৭৬)
উল্লেখ্য: রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ওফাত সাহাবায়ে কেরামের জীবনে অনেক বড় আঘাত ছিল। এরচেয়ে বড় কোনো দুঃখ তাদের জীবনে আসেনি। তাঁদের সমগ্র পৃথিবী যেন আঁধারে ঢেকে গিয়েছিল। আর কেনই বা হবে না। তারা তো রাসূলকে ভালোবাসতেন জীবনের চেয়েও বেশি। তাঁর সম্মানে কোনো নরাধম সামান্য আঁচড় কাটার চেষ্টা করলে তাঁরা তার যথাযথ পাওনা বুঝিয়ে দিতেন। এমন প্রিয় কেউ চলে যাওয়ার চেয়ে বড় দুঃখ আর কী আছে? তাছাড়া রাসূলের ইন্তিকালের মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এটাও কি কম বেদনার?!
শায়েখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ
Top comments (0)