DEV Community

অটোরিকশা; একটি রাষ্ট্রের বেকারত্বের আয়না।

অটোরিকশা। বাচ্চা থেকে বুড়ো, সবাই যে গাড়ি চালাতে পারে। না গাড়ির লাইসেন্সের প্রয়োজন আছে আর না প্রয়োজন আছে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের। গ্রাম থেকে রাজধানী সব জায়গাতেই চলে এ রিকশা। পরিমাণে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। প্রতিনিয়ত নির্মম রোড এক্সিডেন্টের কারণ হচ্ছে। এ জাতীয় অভিযোগগুলো এখন প্রায় সবারই। এর প্রতিকার হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কখনো ঢাকার ভেতরে অটোরিকশা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কখনো শুধু হাইওয়েতে নিষিদ্ধ করেছে। আবার কখনো প্রশাসন জোরপূর্বক রাস্তায় রাস্তায় অটোরিকশা ভাঙন কর্মসূচি পালন করেছে। কখনো ডাম্পিং করেছে। কিন্তু কোনোভাবেই ক্রমবর্ধমান অটোরিকশার বৃদ্ধি হ্রাস পায়নি।

মূল সমস্যাটা কোথায়?

অটোরিকশা সমস্যার সমাধানে সরকার শুধু আইন প্রণয়ন করেছে। মূলত আইন দিয়ে সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হয় না। সমস্যার শেকড়ে পৌঁছাতে হয়। এত ব্যাপকভাবে মানুষ অটোরিকশামুখী হলো কেন? কোনো চাকরিজিবি কি চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেছে? না। কোনো ব্যবসায়ী কি ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অটোরিকশা ধরেছে? না। বরং অটোরিকশা হয়ে উঠেছে বেকারদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। সুতরাং একটু কল্পনা করুন, বাংলাদেশে বেকারদের সংখ্যা কত বেশি? অটোরিকশা বাংলাদেশের বেকারত্বের প্রতীক। অটোরিকশা না হলে আমরা বুঝতাম না, বাংলাদেশে বেকারত্বের অবস্থা কত নির্মম। দেশের তথাকথিত উন্নতি হয়। পদ্মাসেতু হয়। এলিভেডেট এক্সপ্রেসওয়ে হয়। টানেল হয়। কিন্তু দেশের জনগণের বিরাট একটা অংশের বেকারত্ব ঘুচে না।

সমাধান কোন পথে?

সরকার যদি এদেশের মানুষকে মানসম্মত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারতো তাহলে দেশের অটোরিকশা অটোমেটিক কমে যেত। কেউ তো আর মনের সুখে রিকশা চালায় না; চালায় পেটের দায়ে। সরকার যদি দেশের বেকারত্ব ঘুচাতে ব্যর্থ হয় তাহলে দেশে শুধু অটোরিকশার সমস্যায় থাকবে না; এরচেয়েও মারাত্মক মারাত্মক সমস্যার পথ উন্মোচন হবে। কেননা একটা সমাজের চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, নেপথ্যে গাজা ও ইয়াবা-ব্যবসা আর পথেঘাটে বখাটে যুবকদের পৈশাচিক উন্মাদনা ও ইভ টিজিং⸺এসব বেকারদের কাজ। এভাবে হিসেব করলে দেখা যাবে একটা সমাজের সিংহভাগ অপরাধ সংঘটিত হয় বেকারদের দ্বারা। সম্মানজনক বৈধ পেশা একজন মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। একটি সংসারের সে হয় গর্বিত কর্তা। বেকারত্ব তাঁর জীবনে অভিশাপ হয়ে নেমে আসে না। এ কারণে তাকে কটু কথাও হজম করতে হয় না। ফলে অবৈধ পথে সে পা বাড়ায় না। পা বাড়ানোর ফুরসত পায় না।

বেকারত্ব-বিমোচন তালেবান সরকারের শীর্ষ বিবেচনায়:

আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গুরুত্বপূর্ণ যে প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কর্মসংস্থান বাড়ানো। বেকারত্ব কমাতে ইমারাতে ইসলামিয়াহ আফগানিস্তান নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। যে শাসকরা জনগণের প্রকৃত কল্যাণ চান এবং দেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে চান তাদের জন্য জনগণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এজন্যই তালেবান সরকার এই বিষয়টিকে বিবেচনার শীর্ষে স্থান দিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট ২০২৫ ইং টোলো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়:
“বেকারত্ব কমাতে ৪১০টিরও বেশি উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান”। ( https://alfirdaws.org/2025/08/07/85574/ )
হেরাত শিল্প ও খনি বিষয়ক চেম্বারের প্রধান আব্দুল নাসের আমিন জানিয়েছেন, সম্প্রতি (২০২৫ ইং) ইরান থেকে ফিরে আসা ১৩ হাজার ৭০০ জন নাগরিকের হেরাত শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হেরাত প্রদেশের গভর্নর শাইখ মৌলভী ইসলামজার হাফিযাহুল্লাহ’র নির্দেশে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ( https://alfirdaws.org/2025/10/26/89007/ ) তাই যুদ্ধবিদ্ধস্ত আফগানিস্তান থেকেও আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। কত দ্রুত একটা রাষ্ট্র ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা আফগানিস্তান না হলে বিশ্ববাসী বুঝতেই পারতো না। এর কারণ একটাই আফগানিস্তান ইসলামি রাষ্ট্র। সেখানে দুর্নীতি-দুঃশাসন চলে না। দেশ ও জনগণের কল্যাণই তাদের মূল লক্ষ্য।
সারা দুনিয়ার কাফের পরাশক্তিগুলো যদি আফগানিস্তানকে অবরোধ না দিতো, তাহলে হয়তো আমরা আফগানিস্তানে আরো অসাধারণ উন্নতি ও অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করতাম। বর্তমান অবরুদ্ধ অবস্থাতেও তাঁদের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও বেকারত্ব বিমোচনের প্রচেষ্টা ঈর্ষণীয়। আমাদের সবারই উচিত এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া, দূর্নীতিপরায়ণ সেক্যুলার সরকারগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে দ্বীন ও দুনিয়ার প্রভূত কল্যাণ অর্জনের জন্য ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করা।

Top comments (0)