DEV Community

শতাব্দীর মহান বীরঃ ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন যারা

যখন বিশ্বের প্রায় সব দেশ আ/মে'রিকার সামনে অবনত মস্তকে জ্বী হুজুর জ্বী হুজুর করে তাদের হুকুম মেনে চলছিল, কথিত তাওহীদের দেশ, "ওয়াহেদ মুলক" পাকিস্তান ও আরো কিছু মুসলিম অধ্যুষিত দেশ মুসলিমদের ম|র|র জন্য আ/মে'রিকাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছিল, ঠিক তখন দুনিয়ার কোন কিছুর পরোয়া না করে হাতে থাকা ভাঙাচোরা অ/স্ত্র আর বুকে থাকা ঈমান নিয়ে সেই দানবীয় শ'ত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ত|লি'বান ও তাদের বৈশ্বিক জিহাদী মিত্রবাহিনী। বিশ্ব ভেবেছিল সহায় সম্বলহীন এই বাহিনী কয়েকদিনের মধ্যেই ন্যাটোভুক্ত ৪৮ টি দেশ ও পাশ্ববর্তী গাদ্দারদের শক্তির সামনে মাথানত করে পরাজয় স্বীকার করে নেবে। তাদের ফেরি করা গ'ণ'তন্ত্র ও পুঁজিবাদের সামনে নিজেদেরকে সঁপে দেবে।

কিন্তু না, তাদের ঈমান পাহাড়ের মত অটল রইল। তারা আফগানের শাসন ক্ষমতা, নিজেদের জান মাল সব বিলিয়ে দিলেন কিন্তু কু'ফ'রী শক্তির সামনে মাথানত করলেন না।

মো*ল্লা উ'ম'র রহিমাহুল্লাহ দরাজকণ্ঠে ঘোষণা দিলেন-
‘আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বিজয়ের ওয়াদা দিয়েছেন আর আ/মে'রিকা পরাজিত করার ঘোষণা দিয়েছে। অচিরেই আমরা দেখতে পাব- কে তার ওয়াদা পূরণে অধিক সত্যবাদী’

আল্লাহু আকবার কত মজবুত ঈমান! আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্তির ব্যাপারে কত দৃঢ় ইয়াকীন! মহান রবের সাথে কত মজবুত সম্পর্ক! এই ঈমানের সামনে পাহাড় টলে যাবে কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে একটুও নত হবেনা।

আমি ভেবে অবাক হই, এই মানুষগুলো মহান রবের সাথে কতটা মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন যে, তারা সারা বিশ্বের কথিত সুপার পাওয়ার এবং তার শক্তিশালী জোটের বিরুদ্ধে আধুনিক অ/স্ত্র শ*স্ত্র এবং প্রযুক্তি ছাড়াই সরাসরি যু^দ্ধ করার হিম্মত করেছিলেন ।
সেই কঠিন মূহুর্তেও বিজয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন যখন জাতি ভাইরাও (নামধারী মুসলিম দেশসমূহ এবং দেশে থাকা গাদ্দারেরা) পিঠে ছুরি মারছিল। শুধু স্বপ্নই দেখেননি, মহান রবের সাহায্যে সেই সকল শক্তিকে পরাজিত করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

আল্লাহু আকবার।

আমার কলম এই মহান মানুষদের ঈমানের বর্ণনা দিতে অক্ষম। তাঁদের ত্যাগ ও কোরবানীর পরিপূর্ণ বর্ণনা দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার (মোল্লা উমরের) কথার লাজ রক্ষা করেছেন। আ/মে'রিকা এবং ন্যাটোভুক্ত দেশসমূহ বিশ বছর যু^দ্ধ করে পরাজিত, অপমানিত হয়ে নাকে খত দিয়ে আ/ফ'গ|নিস্তান ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
এই দৃশ্য দেখে একটা হাদীস আমার কাছে খুব প্রাসঙ্গিক মনে হল- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
رُبَّ أَشْعَثَ مَدْفُوعٍ بِالأَبْوَابِ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ

অনেক উষ্কখুষ্ক চুলবিশিষ্ট (ধূলিমলিন) ব্যক্তি, যাদের (সাধারণ হওয়ার কারণে) মানুষের দুয়ার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়—তারা যদি আল্লাহর নামে কোনো বিষয়ে কসম করে বা দুআ করে, তবে আল্লাহ তাআলা (তাঁদের সম্মানার্থে) অবশ্যই তা পূরণ করেন। -[সহীহ মুসলিম: ২৬২২]

আশ্চর্য লাগে, যখন দেখি কিছু মানুষ ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া উম্মাহর এই মহান বীরদের অমুক তমুকের দালাল আখ্যা দেয়, তাদের ত্যাগ ও কোরবানীকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। তাদের চরিত্রে কালিমা লেপনের জন্য কুফফারদের সুরে কথা বলে।
প্রিয় পাঠক, বিশ বছরের যু^দ্ধে পাহাড়সম ঈমান ও জীবন্ত কারামাত দেখার পরও কিভাবে এই মহান মানুষদের ব্যাপারে কোন প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র কুফফার মিডিয়ার মিথ্যা খবরের ভিত্তিতে নেতিবাচক মন্তব্য করা যায়? আমার দলের বা আদর্শের না হওয়ায় লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত বিশ্বের একমাত্র ইসলামী ইমারাহর বিরুদ্ধে দালাল ও কুফফার মিডিয়ার সুরে সুর মিলিয়ে প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানো যায়?
এই মানুষগুলো তামাম বিশ্বের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে, কে নিষেধাজ্ঞা দেবে, কে রিজার্ভ আটকে দেবে, কে কি বলবে সেসবের পরোয়া না করে আফগান ভূখণ্ডে ইসলামী শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আমাদের কর্তব্য ছিল সাধ্যানুপাতে তাদের সহযোগিতা করা, কিন্তু আমরা কিনা তা না করে তাদের বিরুদ্ধে প্রোপ্যাগান্ডা ছড়াচ্ছি। তাদের ভাল কাজগুলোকে সত্যের সাথে মিথ্যার রঙ মিশিয়ে খারাপভাবে উপস্থাপন করছি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এসব অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।
এই অগাস্ট মাসেই আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে পরাজয়ের লাঞ্চনা নিয়ে আ/মে'রিকা ও তার মিত্ররা আ/ফ'গ|নিস্তান থেকে প্রস্থান করেছিল এবং আমীরুল মুমিনিন শাইখুল হাদীস হেবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নেতৃত্বে আ/ফ'গ|নিস্তানে ইসলামী ইমারত পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল। আসুন, আমরা মুজাহিদদের পরিচালিত নিউজ এজেন্সিগুলো থেকে ইমারতে ইসলামিয়্যাহ আ/ফ'গ|নিস্তানের বাস্তব হালত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হই এবং ইসলামী রাষ্ট্রটিকে যার যার সাধ্য অনুযায়ী নুসরত করার চেষ্টা করি।

Top comments (0)