DEV Community

সে'ক্যু'লার ব্যবস্থার ক্ষতিকর পরিণতি

উপমহাদেশের মুসলিমরা গোলামী ও সে'ক্যু'ল|র সিস্টেমের অধীনতা মানতে গিয়ে যে পরিমাণ জুলুম নি'র্য|তন সহ্য করেছে, যে পরিমাণ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে; যদি প্রকৃত আজাদী ও শ'রী'য়|হর জন্য লড়াই করত তাহলে হয়তো এর অর্ধেক প্রাণও দেওয়া লাগতনা।
ভারতে বিগত ৭০ বছরে বিভিন্ন দ|ঙ্গা হ|ঙ্গামা এবং সরকারী বাহিনীর হাতে হ/ত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে দুই তিন লাখ মুসলিম শাহাদাত বরণ করেছেন। (হায়দারাবাদ ও কাশ্মীর গণহ/ত্যার হিসাব ধরলে এই সংখ্যা আরো বেশি হবে)

বাংলাদেশ-পাকিস্তানেও রাজনৈতিক ম|র|মারি এবং সরকারী বাহিনীর হাতে নি/হ/তের সংখ্যা লক্ষের কম হবেনা।

কিন্তু যদি আমরা গোলামী ও সে'ক্যু'ল|র সিস্টেমকে গ্রহণ না করে আজাদী ও শ'রী'য়|হকে বেছে নিতাম, শ'রী'য়|হ কায়েমের জন্য লড়তাম তাহলে হয়তো এতদিনে পুরো উপমহাদেশ মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে থাকত, উপমহাদেশের আকাশে কালিমার পতাকা পত পত করে উড়ত।
এমন হলে-
ভারতে প্রতিদিন নানান অজুহাতে মুসলিমদের ম'রতে দেখতে হতনা, বু'লডোজারে ঘরবাড়ি হারাতে হতনা, দ|ঙ্গায় গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হতে হতনা।

পাকিস্তানে আ/মে'রিক|ন ভাড়াটে সে/নাদের হাতে কাবায়েলী অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষকে শাহাদাত বরণ করতে হতনা, ঘরবাড়ি ছেড়ে শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে হতনা, জুলুমের বিরুদ্ধে মিছিলে নেমে শত শত মানুষের লা*শ নিয়ে ঘরে ফিরতে হতনা।

দুঃখজনক ব্যপার হল জুলুমের শিকার হতে হতে আমাদের ভেতর থেকে জুলুমের অনুভূতিই নষ্ট হয়ে গেছে। এই গ'ণত|ন্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী সিস্টেম যে জুলুমের অন্যতম হাতিয়ার এটা আমরা বুঝতেও চাইনা।
এই সিস্টেমের কারনে বিগত ৭৫ বছরে এত হাজার হাজার মানুষের মৃ/ত্যু দেখেও আমরা এর থেকে মুক্ত হতে চাইনি। জুলুমের সিস্টেম ভেঙ্গে ন্যায় ও ইনসাফের শ'রী'য়|হ কায়েমের চেষ্টা করিনি।
এই কাজ ফরজ জেনেও এর থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন অপব্যখ্যার আশ্রয় নিয়েছি। বিদ্যমান সিস্টেমকে ইসলাম সম্মত এবং এই সিস্টেমে অংশগ্রহণ করা জি'হ|দের সমতূল্য, এই কথা প্রমাণের জন্য কম চেষ্টা মেহনত করিনি।
কিন্তু দিনশেষে কি পেয়েছি? জুলুম,অত্যাচার, গু^ম-খু*ন, হারাম ও কুফরের প্রচার প্রসার, আলেম ওলামাদের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে রাখা, দ্বীনকে শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ করা।

তবু আমরা সন্তুষ্ট, তবু আমরা আত্মতুষ্ট। যেন এটাই ইসলামের চাওয়া।

আল্লাহর জমিন কখনো একভাবে দীর্ঘদিন চলেনা, আমরা না চাইলেও আল্লাহ তাআলা তাঁর জমিনে সময়ের ব্যবধানে দ্বীনকে বিজয়ী করবেন।
যদি আমরা দ্বীন বিজয়ী সেই কাফেলায় শরীক হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকি তাহলে এটি আমাদের জন্যই কল্যাণকর। আর যদি শরীক হতে ভয় পাই বা অপছন্দ করি তাহলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই আমাদের পরিবর্তে ভিন্ন এক জাতি দ্বারা দ্বীন বিজয়ের কাজ করাবেন; যারা আমাদের মত ভীতু ও বিদ্যমান সিস্টেমে সন্তুষ্ট হবেনা।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَاِنۡ تَتَوَلَّوۡا یَسۡتَبۡدِلۡ قَوۡمًا غَیۡرَکُمۡ ۙ ثُمَّ لَا یَکُوۡنُوۡۤا اَمۡثَالَکُمۡ
তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তোমাদের স্থানে অন্য কোন সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করবেন অতঃপর তারা তোমাদের মত হবে না।–[সুরা মুহাম্মাদ ৩৮]
অতএব আমরা যদি আল্লাহর নির্বাচিত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে চাই তাহলে দ্রুতই জুলুম থেকে মুক্তি ও শ'রী'য়|হ কায়েমের লক্ষ্যে নববী কাফেলায় নাম লেখাতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই কাফেলায় কবুল করুন, ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে অটল অবিচল রাখুন।

Top comments (0)