DEV Community

তেল নিয়ে তেলেসমাতি

-
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে সমগ্র বিশ্বে তেল নিয়ে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা শুরু হয়। এরই রেশ ধরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা শুরু করে। একপর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৮০ ডলারের কাছাকাছি।
এসবকিছুর আড়ালে-আবডালে বাংলাদেশে শুরু হয় তেল নিয়ে তেলেসমাতি। ছলে বলে কৌশলে মূল্যবৃদ্ধির ছক কষতে থাকে সরকার। সেজন্য বেছে নেয় জনগণের সাথে প্রতারণার পথ। সরকারের পরোক্ষ মদদে শুরু হয় সিন্ডিকেট। অসাধু ব্যবসায়ীদের তেল মজুদের সে কি ঘৃণ্য মহড়া! জনগণকে বোঝানো হয়, পাম্পগুলো তেল শূন্য হয়ে পড়ছে। হাতেগোণা কয়েকটি পাম্প নিয়ম করে রাত দিন ২৪ ঘণ্টা তেল দেয়। ফলে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে থাকে গ্রাহকসারি। ৫-৭-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৫০০ টাকার তেল পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অনেকেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়। এরই মধ্যে সরকার শোনায় মুগ্ধতার বাণী। জ্বলানি তেলের দাম বাড়ানোর ইচ্ছে নাকি নেই সরকারের।
দিনে দিনে ভুক্তভোগীদের সারি আরো দীর্ঘ হতে থাকে। ভোগান্তিতে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এখন টাকার হিসেব মানুষ করে না। শুধু তেল দরকার। কেউ ২০০ টাকা লিটার দিলেও তারা নিতে প্রস্তুত। কারণ, তেল দরকার। টাকা ব্যাপার না। এদিকে যুদ্ধের উত্তাপ কমতে শুরু করেছে। আলোচনার টেবিল সাজানো হচ্ছে। আন্তার্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম কমে কমে ৯০ ডলার পর্যন্ত এসেছে। ঠিক এমন সময়ে সরকার তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। ইতোপূর্বে শেখ হাসিনার সরকারের আমলেও তেলের দাম এত হয়নি। ব্যবসায়ীরা সরকারের কৃতজ্ঞতা আদায় করেছে। তারা খুশি। সরকারও খুশি। কিছুদিনের মধ্যে সব পাম্পে যখন খুব সহজেই তেল পাওয়া যাবে, তখন জনগণও খুশি হবে।
মূলত এই সব উটকো ঝামেলা সৃষ্টিতে সরকার দায় এড়াতে পারবেনা। তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে গাড়ি ভাড়া বাড়ায় গাড়িমালিক সমিতি। ফলে আড়তদাররা তরকারির দাম বাড়ায়। এসবের প্রভাবে সকল ভোজ্য পণের দাম বেড়ে যাবে। কাপড়ের দাম বেড়ে যাবে। বাড়বে না শুধু খেটে খাওয়া মানুষের মাসিক বেতন। তাদের যাতায়াতের খরচ বাড়লেও সেটা কেউ দেখবে না। এটার নামই বাংলাদেশ। এদেশের সরকার যেকোনো ছোট বড় ইস্যু নিয়ে কীভাবে রাজনীতি করবে আর জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলবে শুধু সেই অপেক্ষায় থকে। তেলের বিষয়টা একটা উদাহরণ মাত্র, এরকম আরো হাজারো উদাহরণ দেয়া যাবে। আওয়ামী লীগ করোনা নিয়ে রাজনীতি করেছিল আর এই সরকার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি করছে। জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। জনগণ ১৭ বছরে আওয়ামী লীগকে চিনেছে। এখন সময় এসেছে বিএনপিকে চেনার। একসময় বিএনপির প্রতি মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গণতান্ত্রিক অন্য কোনো সরকার খোঁজে বের করবে। আশায় থাকবে, সে হয়তো জনগণের দুঃখ ঘুচাবে। কিন্তু সেই সরকারের কাছেও জনগণের চাওয়া-পাওয়া পদপিষ্ট হবে মারাত্মকভাবে। হন্যে হয়ে খুঁজবে বিকল্প সরকার। জনগণের ভাগ্য তবুও বদলাবে না। সবাই জনগণের সাথে প্রতারণা করবে। ধোঁকা দেবে। কষ্ট লাঘব করার বাণী শোনাবে। আশ্বাস দেবে। কিন্তু নির্বাচনের পর সব ভুলে যাবে। কারণ, গণতন্ত্রের এই সিস্টেমটাই নষ্ট, ভ্রষ্ট এবং পচে যাওয়া একটা সিস্টেম।
কবে যে আমরা এই ব্যার্থ সেক্যুলারিজমকে ছুঁড়ে ফেলে ইসলামী শাসনের কথা ভাবব? কবে যে আমরা ইমারতে ইসলামিয়্যাহ আফগানিস্তান থেকে শিক্ষা নেব? শত প্রতিকূলতা, অবরোধ এবং সংকটের পরও সরকার কীভাবে সততার সাথে জনগণের কল্যাণে কাজ করে তার অনন্য উদাহরণ হলো আফগানিস্তান। সুদ-ঘুষ-দুর্নীতি আর দুঃশাসনকে আফগানিস্তান মাটিচাপা দিয়েছে। পশ্চিমাদের এই ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা তারা আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলেছে। শুধু সময়ের অপেক্ষা... ইনশাআল্লাহ, বিশ্ব একদিন তাদের পথ ধরেই হাঁটবে, হাঁটতে বাধ্য হবে।

Top comments (0)