DEV Community

আমরাও কি তাহলে কুরআন পরিত্যাগকারীদের দলে?

আল্লাহ তাআলা অনেক ভালোবেসে এবং মহব্বত করে আমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব কুরআনুল কারীম দান করেছেন। যেন আমরা এই কিতাবকে ধারণ করে দুনিয়াতে রাজত্ব এবং আখিরাতে মুক্তি ও কামিয়াবী অর্জন করতে পারি। কিন্তু দুঃখজনক ব্যপার হল আমরা এই কিতাব থেকে দূরে সরে গেছি, এই কিতাবের শিক্ষা ও হুকুম আহকাম পালন ও বাস্তবায়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।

পরিবর্তে আমরা বেছে নিয়েছি শয়তান ও তার এজেন্টদের জীবনব্যবস্থাকে। আমাদের কাছে এখন আর ইসলামী অর্থব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা ও জীবনব্যবস্থা ভালো লাগেনা, ভালো লাগে পশ্চিমাদের জীবনব্যবস্থা। আল্লাহর দেয়া হুকুম আহকামগুলো মানতে ভালো লাগেনা, ভালো লাগে শয়তানের অনুসরণ।

আমাদের এই কুরআন বিমুখিতার কারণে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে নালিশ জানাবেন। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ

وَ قَالَ الرَّسُوۡلُ یٰرَبِّ اِنَّ قَوۡمِی اتَّخَذُوۡا هٰذَا الۡقُرۡاٰنَ مَهۡجُوۡرًا

(বিচারের দিন) রাসূল বলবেন- হে আমার প্রতিপালক! আমার কওম এই কুরআনকে পরিত্যাগ করেছিল। –[সুরা ফুরকান ৩০]

ইবনুল কাইয়িম রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় কুরআন পরিত্যাগের কতগুলো সুরত ও স্তর বর্ণনা করেছেন। সুরতগুলো হল-

১। কুরআন শ্রবণ না করা, ঈমান না আনা এবং মনোযোগ না দেওয়া।

২। কুরআন পাঠ এবং কুরআনের প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও কুরআন অনুযায়ী আমল না করা, কুরআনে বর্ণিত হালাল হারামের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা।

৩। কুরআন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা না করা ও কুরআনের ফয়সালা না মানা।

৪। কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা না করা, কুরআন বুঝে না পড়া এবং আল্লাহ তাআলা যা বোঝাতে চেয়েছেন তা না বোঝা। (কুরআন থেকে সাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহীনগণ যা বুঝেছেন সেটা হল সঠিক বুঝ। যদি কারো বুঝ সালাফের বিপরীত হয় তাহলে সেটা ভুল বুঝ;আল্লাহ তাআলা সেটা বোঝান নি)

৫। অন্তরের যাবতীয় রোগ-ব্যাধির চিকিৎসায় কুরআনকে ঔষধ হিসেবে গ্রহণ না করা।

এখানকার সবগুলো সুরতই আয়াতে উল্লেখিত কুরআন পরিত্যাগের শামিল। তবে সবগুলোর ভয়াবহতা সমান নয়, কোনটার বেশি আর কোনটার কম। - [আল ফাওয়াইদ ১১৮]

কুরআন পরিত্যাগের আরো একটি সুরত আমাদের সমাজে বেশ প্রচলিত, সেটি হল- জ্বিন যাদুর চিকিৎসায় কুরআনী আমল বাদ দিয়ে কুফর শিরকে লিপ্ত তান্ত্রিক কবিরাজদের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো।

যদি আমরা গভীরভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাবো, কুরআন পরিত্যাগের এক বা একাধিক সুরতের সাথে আমরাও জড়িত আছি, বিভিন্নভাবে আমরাও কুরআন পরিত্যাগ করে যাচ্ছি। এই কারণে যদি সেদিনের নালিশটা আমার বিরুদ্ধেও যায় তাহলে জাহান্নামের আগুন থেকে আমাকে বাঁচাবে কে?

তাই আসুন একটু সতর্ক হই, পূর্বের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করি এবং কুরআনের সবগুলো হক ঠিকভাবে আদায়ের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

Top comments (0)